চোর সন্দেহে গণপিটুনি, হাসপাতালে মৃত্যু যুবকের! নকশালবাড়ির দয়ারাম জোতে ঘটনায় গ্রেফতার ২
নকশালবাড়ি: চোর সন্দেহে এক যুবককে গণপিটুনির অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার প্রায় দুই ঘণ্টা পর মৃত্যু হল ওই যুবকের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নকশালবাড়ির দয়ারাম জোত এলাকায়। গোটা ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, এদিন দয়ারাম জোত এলাকায় একটি বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে ঢোকার অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাড়ির ভিতরে থাকা গ্রিলের ফাঁকে ওই যুবকের পা আটকে যায়। বিষয়টি বাড়ির মালিকের নজরে আসতেই তাকে পাকড়াও করা হয়।
এরপর মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকজনের ভিড় জমে যায়। অভিযোগ, সেখানে ওই যুবককে কয়েকজন মারধর করেন। গুরুতর জখম অবস্থায় পরে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বরে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই যুবককে নকশালবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রায় দুই ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত যুবকের নাম সুরজ ওঁরাও। তিনি অটল চা-বাগানের সাতভাইয়া ডিভিশনের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই সুরজ মল্লিক ও রঞ্জন সেন নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত দু’জনই দয়ারাম জোতের বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হবে।
এদিকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একইসঙ্গে উঠছে একাধিক প্রশ্ন—চুরি করার অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে কেন নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিলেন কয়েকজন? গণপিটুনির অভিযোগের পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল? কীভাবে ওই যুবকের মৃত্যু হল?
গোটা ঘটনায় লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির পাশাপাশি ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেও নজর রয়েছে পুলিশের।
নকশালবাড়িতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ | যমরাজ-চিত্রগুপ্তের পথনাটিকায় ট্রাফিক সচেতনতা
