গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দ্রুত পানীয় জল প্রকল্প সচল না হলে গোটা গ্রাম ঘোর সমস্যার সম্মুখীন হবে। গ্রামের যে জমিতে সরকারি পানীয় জল প্রকল্পটি বসানো হয়েছে, সেই জমিদাতা কুমর সিংহই পাম্প হাউসে তালা ঝুলিয়েছেন বলে অভিযোগ। তাঁর অভিযোগ, জমি দেওয়ার বিনিময়ে তাঁকে পাম্প অপারেটরের পদে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছ থেকে সুপারিশ পাওয়া সত্ত্বেও তাঁকে চাকরি না দিয়ে ওই গ্রামেরই অন্য এক ব্যক্তি, রাজেশ সিংহকে ওই পদে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ চলছিল। নিজের জমিতে সরকারি প্রকল্প বসেও চাকরি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তালা ঝোলালেন স্বীকার করেন জমির মালিক কুমর।
এমনিতেই পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর কারণে গ্রামের কুয়ো ও অন্যান্য জলের উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে। এই সরকারি প্রকল্পই ছিল গ্রামের একমাত্র ভরসা। টানা পাঁচ দিন প্রকল্প বন্ধ থাকায় তীব্র জলসংকটে পড়েছেন গ্রামবাসী। জমিদাতা কুমর সিংহ বলেন, "আমার নামে জমি। আমাকে পাম্প অপারেটরের চাকরি দিতে প্রশাসনিক আধিকারিকরা সুপারিশ করেছিলেন, কিন্তু কাজ পেয়েছেন গ্রামের অন্য একজন।"
অন্যদিকে, বর্তমানে নিযুক্ত পাম্প অপারেটর রাজেশ সিংহ জানান, তাঁকে কাজ দেওয়ায় তিনি কাজে যোগ দিয়েছিলেন। কাজে যাওয়ার পরই তিনি পাম্প হাউসে তালা ঝুলতে দেখেন। বুড়াগঞ্জের প্রধান এই বিষয়ে বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কুমর সিংহকে সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি কাজ না পাওয়ায় পাম্প হাউসে তালা ঝুলিয়ে চাবি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে দিয়ে গিয়েছেন।
গোটা বিষয়টি তিনি লিখিত আকারে বিডিও-কে জানিয়েছেন। সমস্যার বিষয়ে বিডিও দীপ্তি সাউ জানান, প্রধান তাঁকে নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমরা জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দপ্তরকে বিষয়টি জানিয়েছি।
তারা গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে। তারা সমাধান করতে না পারলে আমরা বিষয়টি হস্তক্ষেপ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।" জলকষ্ট থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন।
